জিয়াউল জিয়া ॥
‘মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ ও নতুন বন্দোবস্ত লক্ষে তারুণের প্রত্যয়’ এই স্লোগানে জাতীয় যুবশক্তি এনসিপি রাঙামাটি জেলার জেলার শাখার প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের রাঙাশ্রী কমিউনিটি ক্লাবে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি)। এতে আরও উপস্থিতি ছিলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হক, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র মূখ্য সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত, জাতীয় নাগরিক পার্টি রাঙামাটি জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী বিপিন চাকমা, যুগ্ম সমন্বয়কারী জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য এলাকায় এই যুব শক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে এক সেতু বন্ধন তৈরি হবে। পার্বত্য এলাকায় উন্নয়ন কাজে সুষম বন্টন হতে হবে। বৈষম্যহীন উন্নয়ন হলে পাহাড়ের চিত্র বদলে যাবে। এখনো আওয়ামীলীগের আমলে সুবিধা নেয়া পার্বত্য উপদেষ্টাসহ অনেক জেলা পরিষদ সদস্য এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। এই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও রাঙামাটিতে নৌকার প্রার্থী দীপংকর তালুকদারের নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন। এখন তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আমরা কি আশা করতে পারি? তাই এই সকল মানুষদে সরিযে না দিলে এনসিপিকে রাঙামাটিতে কাজ করা কঠিন হয়ে যাবে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের এখনি ব্যবস্থা নিতে হবে। যুবকরা চাইলে যে কোন কিছুই পরিবর্তন করতে পারি। সেটা জুলাই আন্দোলনে দেখিয়ে দিয়েছে ছাত্র-যুবকরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি রাঙামাটি জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে সারা দেশ স্বাধীন হলেও রাঙামাটি জেলা নতুন করে পরাধীন হয়েছে। বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন। উনি আবার রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির বড় ভাই। রাঙামাটিতে এক ভাই আওয়ামী লীগ এক ভাই বিএনপি করে। রাঙামাটিতে সাবেক মহিলা এমপি এখনো রাঙামাটিতে আছেন। শহর ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কারণ আপনারা সবাই জানেন।
জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র মূখ্য সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত বিএনপিতে উদ্দেশে করে বলেন, আজকে যারা বলছে ক্ষমতা তাদের কাছে, তাদের বলবো দিল্লি বহুদূর। ক্ষমতায় আসা এতো সহজ হবে না আপনাদের। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবে এনসিপি। ৬৪ জেলার মানুষের সমর্থন নিয়ে আগামী দিনে এনসিপি ক্ষমতায় আসবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পথসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ দিচ্ছে এনসিপি গণমানুষের দল।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার যেভাবে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেছিলো। একটা দল সেইভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়। আমাদের শাপলা প্রতীকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শাপলা প্রতীক এনসিপিকে দিতেই হবে। শাপলা প্রতীক এনসিপি’র অধিকার। এনসিপি সবধরনের নিয়ম অনুসরণ করেই শাপলা প্রতীক চেয়েছে। সংস্কার ও বিচারের আগে কোন নির্বাচন। নির্বচনের আগে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার করতে হবে। নির্বাচন হতে হবে পিআর পদ্ধতিতে।
জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব দ্যুতি অরন্য চৌধুরী (প্রীতি) বলেন, আগামীতে রাঙামাটিতে যুবশক্তির যারা দায়িত্ব যারা পাবেন তাদের কথা শুনতে এসেছি। আপনাদের পরাপর্শে এনসিপির যুবশক্তির রাঙামাটির জেলা কমিটি গঠন করা হয়। পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের সকলকে অংশ নিতে পারে সেভাবে আমরা কাজ করছি। যুবশক্তি হবে এনসিপির মেরুদন্ড। আমাদের কর্মীদের কোনও সমস্যা হলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাই ভয়ের কিছু নাই। আপনারা কাজ করুন।

