পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য নতুন করে ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তিনটি উন্নয়ন সহায়তা খাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মূল এডিপিতে বরাদ্দকৃত ২৫০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি হয়ে তা এখন ৩৭৫ কোটিতে উন্নীত হল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। ৯১ হাজার কোটি টাকার মূল সংশোধিত বার্ষিক কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।
মঙ্গলবার শেরে বাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এক বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর বাইরে স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় ২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কয়েকদিন আগে তিন পার্বত্য জেলায় আরও ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) অতিরিক্ত ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের আর এডিপি’তে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১২৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে। বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি তিন পার্বত্য জেলা বৃটিশ এবং পাকিস্তান শাসন আমল থেকেই উন্নয়নে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক অতিরিক্ত বরাদ্দ করবেন।
আরও জানা গেছে, এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে নতুন নতুন প্রকল্প অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবেন এবং সরকার এর জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি। এই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
উক্ত চিঠিতে আরও বলা হয়, তিন পার্বত্য জেলার অনগ্রসর জনগণের উন্নয়নের লক্ষ্যে নানা কাযর্ক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তিনটি উন্নয়ন সহায়তা খাতে মূল এডিপিতে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরএডিপি’তে আরও ১২৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভায় তা অনুমোদন করা হয়।