জিয়াউল জিয়া ॥
রাঙামাটি পর্যটন শিল্পের আইকন ঝুলন্ত সেতু। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে হ্রদের জলে নিমজ্জিত সিম্বল অব রাঙামাটি খ্যাত ঝুলন্ত সেতু। তাই সেতুতে পর্যটক চলাচলে দেয়া হয়েছে নিষেধজ্ঞা। পর্যটকের পদচারণায় সদা মুখর থাকা স্থানটি এখন প্রায় নিস্তব্ধ।
পর্যটক কমে আসায় বোটগুলো বেঁধে রাখা হয়েছে ঘাটে। আবাসিক হোটেলগুলোতে কমেছে বুকিং, অলস সময় কাটাচ্ছে টেক্সটাইল ব্যবসায়ীরা। ফলে ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় ব্যবসায়ীরা।
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকায় দুই পাহাড়কে যুক্ত করতে ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করে। যা সারা বিশ্বে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের আইকন হিসাবে পরিচিতি পয়েছে। তবে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় তিন মাস ডুবে থাকে।
১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা করা হয়। কাপ্তাই বাঁধের সূত্র মতে, হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। তবে ১০৫ এমএসএল হলেও ডুবে যায় পর্যটন শিল্পের আইকন এই ঝুলন্ত সেতু।
প্রতি বর্ষা মৌসুমে এভাবে ডুবে যাওয়ায় ভাটা পড়েছে পর্যটক আগমনে। ঝুলন্ত সেতু ডুবে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। ঝুলন্ত সেতু ডুবে যাওয়ার আগে ব্যাপক পর্যটক সমাগম থাকলেও হ্রদের জলে নিমজ্জিত হওয়ার পর অর্ধেকেরর বেশি কমেছে পর্যটক। পর্যটক যাও এসেছেন, ঝুলন্ত সেতুর এমন করুণ অবস্থা ও ডুবন্ত সেতুর জন্য কার্পোরেশন টিকেট নেওয়ায় হতাশা তাদের কণ্ঠে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মো. ফাহিম জানান, আমরা প্রবেশ করার সময় জানতাম না সেতু ডুবে আছে। এভাবে ডুবন্ত সেতু দেখতে হবে সেটা চিন্তা করিনি। পুরাই হতাশা ছাড়া আর কিছু না।
কুমিল্লা থেকে বেড়াতে আসা দুই বন্ধুর অভিযোগ, প্রবেশ ফি নেয়া হলেও এখানে কিছুই দেখার নেই। ডুবে যাওয়া সেতু দেখতেও টাকা দিতে হচ্ছে। ঘাটে বোট দিয়ে ওই প্রান্তে যেতে বোট ভাড়া দিতে হবে। এসব ভোগান্তি ছাড়া কিছুই না।
স্থানীয় পর্যটক সমীর চাকমা বলেন, ঢাকা থেকে আমার কিছু বন্ধু এসেছে। তাদের নিয়ে ঝুলন্ত সেতু ঘুরতে এসেছি। তারাও হতাশ হয়েছে। ঝুলন্ত সেতু এখন ডুবন্ত।
আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতির সভাপতি মোস্তফা কামাল উদ্দিন বলেন, একটা সময় শুধু শীত মৌসুমে পর্যটক আসতো। এখন শীত ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে পর্যটক আসে রাঙামাটিতে ঝর্ণাসহ প্রকৃতি দেখতে। এই সময় ঝুলন্ত সেতু ডুবে থাকায় অর্ধেকেরর বেশি কমেছে পর্যটক। রাঙামাটি পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাইলেন হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির এই নেতা।
রাঙামাটি পর্যটন কার্পোরেশনের ব্যাবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা সেতু প্রবেশে টিকেট নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটা আমাদের ইকো পার্কের টিকেট নেয়া হচ্ছে। কারণ আমাদের পার্কের গেইট না থাকায় সেতুর গেইট থেকে টিকেট কাটা হচ্ছে। আর সেতু ডুবে থাকায় মাসে প্রায় লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে কর্পোরেশন।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, আমরা দেখেছি প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সেতু ডুবে যায়। এটিকে কিভাবে আধুনিক সেতু নির্মাণ করা যায় কিনা তার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের কাজ চলছে। আশা করি নতুন আধুনিক ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ হলে বদলে যাবে পর্যটন শিল্প।

