জিয়াউল জিয়া ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জুম্ম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে প্রভাত ফেরী, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘বিভেদপন্থী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর অধিকতর সামিল হোন’ এই স্লোগানে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠিত হয়। এটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অস্থায়ী বেদিতে নেতাকর্মীসহ সাধারণ জুম্ম জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি গঙ্গামানিক চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিশির চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান প্রমূখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, চুক্তির ২৮ বছর কেটে গেলে, কিন্তু কোনও অগ্রগতি হয়নি। যে সরকার চুক্তি করেছে তারা টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন, এই সময়ের মধ্যে তিনটি অগ্রগতি হয়েছে? হয়নি। সামনে নির্বাচন, এই নির্বাচন করে কী আমরা আমাদের অধিকার আদায় করতে পারবো? তাহলে এটা নিয়ে মাতামাতি করে কী লাভ? বরং আমরা বলবো দল যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সকলেই তার পক্ষেই থাকা উচিত।
বক্তারা আরও বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ে কাজ করে গেছেন। অথচ আমাদের জাতীয় বেইমানরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। ফলে জুম্ম জাতি আজ পর্যন্ত তাদের অধিকার আদায় করতে পারেনি। এই বিভেদ পন্থীরা এখনো নানা ষডযন্ত্র করে যাচ্ছে। জুম্ম জাতিকে তাদের ব্যপারে সচেতন হতে হবে। তাদের বর্জন করতে হবে। চুক্তি বাস্তবায়ন চাইলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অন্যথায় আমরা আমাদের অধিকার আদায় করতে পারবো না। তার প্রমাণ চুক্তির ২৭ বছরেও বাস্তবায়নের কোন অগ্রগতি হয়নি বলো অভিযোগ করেন বক্তারা।
এমএন লারমা ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর ৮ সহযোগীসহ দলের বিভেদপন্থী গ্রুপের হাতে নিহত হন।

