জিয়াউল জিয়া ॥
রাঙামাটির কাউখালীতে আটদিন আগে অপহৃত পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মো. মামুনের(৩৫) দ্বিখ-িত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে কাউখালী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে কাউখালী উপজেলার মাঝের পাড়া এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী মামুনের সাবেক কর্মচারী কামরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুগারমিল আদর্শগ্রাম এলাকার আলী আহম্মেদের একমাত্র সন্তান মো. মামুন। মামুনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে তিন ও আট বছর বয়সী ছেলে এবং নয়মাস বয়সী মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. মামুনের কর্মচারী ছিলেন ঘাতক কামরুল ইসলাম। গত ৭ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ হয় ব্যাবসায়ী মামুন। ঐদিন রাতেই স্ত্রীকে ফোন করে মামুন তার ব্যাংকের ২টি চেক চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকার জনৈক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে বলে। ৮ জুলাই মামুনের স্ত্রীর ফোনে মামুনের নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় অপহরণ করা হয়েছে তাকে। মামুনের স্ত্রী জানায়, অপহরণের পর ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে ফোন করেন কামরুল।

কাউখালী থানায় মামুনের স্ত্রী জিডি করার পর নড়েচড়ে বসে কাউখালী থানা পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় কামরুলের সন্ধানে নামে। পরে গত সোমবার লক্ষীপুর জেলার ভবানীগঞ্জ থেকে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে ঘাতক কামরুলকে গ্রেফতার করে কাউখালী থানা পুলিশ।
কামরুলের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মঙ্গলবার সকালে কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের মাঝের পাড়া এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় মাটিতে পুতে রাখা অবস্থায় মামুনের লাশ উদ্ধার করে কাউখালী থানা পুলিশ।
পুলিশ হেফাজতে ঘাতক কামরুল জানায়, মামুনকে রানীরহাট এলাকায় তার ভাড়া বাসায় স্ত্রীসহ চায়ের সাথে নেশাজাতীয় খাবার খাইয়ে অজ্ঞান করে। পরে তাকে হত্যা করে লাশ দ্বিখন্ডিত করে স্ত্রীসহ বস্তায় করে কাউখালী উপজেলার মাঝের পাড়া এলাকায় এসে তার ফুফা শ^শুরের বাড়ির পাশে লাশ মাটিতে পুঁতে রেখে পালিয়ে যায়।
কামরুলের স্বীকারোক্তি মোতাবেক এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী সাথী আক্তার (১৯)কে ও গ্রেফতার করেছে কাউখালী থানা পুলিশ।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, এ ব্যাপারে কাউখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক কামরুলকে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড চাওয়া হবে। এ হত্যাকান্ডের সাথে কারা কারা জড়িত আছে সকলকে খুঁজে বের করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(কাপ্তাই-কাউখালী সার্কেল) জাহেদুল ইসলাম জানান, নিহত মামুনের সাবেক কর্মচারী ছিলো ঘাতক কামরুল। কিন্তু কর্মচারী থাকলেও সম্প্রতি তারা দুজনে মিলে শেয়ার ব্যবসা করছিলেন। ধারা করা হচ্ছে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের কারণে নৃশংস এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

