ডেস্ক রিপোর্ট
রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বুধবার সমাজের জনপ্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
এই সামাজিক পরামর্শ সভার মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে রুফটপ সোলার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাবনা ও সুফল তুলে ধরা এবং ছাদ ভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে সেই কার্যক্রম সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা। সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা রুফটপ সোলার বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, সুযোগ এবং জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরেন। স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং কমিউনিটির মানুষকে রুফটপ সোলার বেছে নিতে উৎসাহী করার অঙ্গীকার করেন।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, রাঙামাটি’র সাধারণ সম্পাদক উন্নয়নকর্মী নুকু চাকমার সঞ্চালনায় ফোরামের সভাপতি মুজিবুল হক বুলবুল- এর সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাইউ প্রু মারমা মেরি। পরামর্শ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরা এবং এ বিষয়ক ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন ফোরামের সদস্য লিপিকা ত্রিপুরা।
জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, বসতবাড়িতে রুফটপ সোলার স্থাপন জনপ্রিয় করা সম্ভব হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। সারাদেশে সোলার প্যানেলসহ এর সাথে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের একটি বিপুল বাজার সৃষ্টি হবে, যা আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমাবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে এক লক্ষ সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ১ লক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, রাঙামাটি’র সভাপতি মুজিবুল হক বুলবুল বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ শুধুমাত্র বিদ্যুৎ এর চাহিদাই পূরণ করবে না বরং নেট মিটারিং এর সুবিধার ফলে আমাদেরকে আয় করতেও সাহায্য করবে।
এই সভায় জনপ্রতিনিধিদের মতামত ও পরামর্শকে ভবিষ্যৎ অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় ভূমিকা ও সমন্বয় এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
রুফটপ সোলারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে এ ধরনের কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। সভায় বাংলাদেশের প্রথম সোলার পার্ক “কাপ্তাই সোলার পার্ক” পরিদর্শন করে পুনঃনবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ক আরো অধিক তথ্য আদান-প্রদানের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।
পরামর্শ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সুচরিতা চাকমা, উত্তরা ত্রিপুরা প্রানজিৎ দেওয়ান, মুকুল কান্তি ত্রিপুরা, পলাশ খীসা, বিপ্লব চাকমা, অশোক কুমার চাকমা, শিশির চাকমা, গৈরিকা চাকমা।

