নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
অনেকেই পার্বত্য চুক্তি বাতিল করার উস্কানি দিচ্ছে অভিযোগ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, যদি চুক্তি বাতিল করতে হয়, তাহলে ৯৭ সালের পূর্বে আমাদের ফিরে যেতে হবে, যা কারোর জন্য সুখকর নয়। উস্কানিমূলক গালগল্প না করে প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করুন। তিনি বলেন, যদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে নির্বাচনে জনসংহতি সমিতি অংশ নিবে। মঙ্গলবার সকালে শহরের জিমনেশিয়াম প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা জনসংহতি সমিতির আয়োজনে গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৮ বছর পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নে কোনও সরকারই আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেনি। চুক্তি যেমন করেছি, বাস্তবায়ন করেই ছাড়বো। পাঁচটি সরকার চলে গেলেও চুক্তির মৌলিক ধারাসহ দুই-তৃতীয়াংশ ধারা অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, অনেকই বলেন, আমরা নাকি ভালো ভালো অস্ত্র জমা দিই নাই, আমি বলতে পারি আমরা একটিও বুলেট রেখে আসিনি। এখন যে পাহাড়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজি হচ্ছে এর দায় সরকারের। চুক্তি পরবর্তী যেসব সশস্ত্র সংগঠন গড়ে উঠেছে, তার দায়ভার সরকারের। পাহাড়ের মানুষ সহজ, সরল শান্তিপ্রিয় মানুষ, তারা লড়াই করে, যুদ্ধ করে সরকারকে চুক্তি করতে বাধ্য করেছে, কাজেই এরা কয়েক লাখ মানুষ হলেও এদের অবজ্ঞা, উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
রাঙামাটি জেলা জনসংহতি সমিতির সভাপতি ডা. গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিশির চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সভাপতি মনি চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সভাপতি এডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি রুমেল চাকমা ও জেলা জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সুর্নিমল দেওয়ান।

