আরমান খান ॥
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির দুর্গম বরকল উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৯০টি পরিবারের পানীয় জলের অভাব পূরণ করলো জেলা পরিষদ। দুর্গম পাহাড়ে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য পানি পাওয়া খুবই দুষ্কর। পাহাড়ের নিচে কুয়া বা ঝরনার পানি সংগ্রহ করে কোনো রকম নিজেদের প্রয়োজন মেটান এখানকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা শুনে ঝরনার পানিকে পাইপের মাধ্যমে গ্রামে পৌঁছে দেয়ার কাজ বাস্তবায়ন করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের আজ্যাংছড়ি গ্রামের ৬০টি পরিবার এবং বড় হরিনা ইউনিয়নের লাইজু পাংখোয়া পাড়ার ৩০টি পরিবার সম্প্রতি নিজেদের পাড়ায় পাইপের মাধ্যমে পানির সুবিধা পেয়েছেন। একসময় এই পরিবারগুলোর সবাইকে পাহাড়ের নিচ থেকে ঝরনা বা কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। এতে করে দিনের একটি বড় অংশ পানি সংগ্রহে চলে যেত। এছাড়া পরিবারের বয়স্ক ও শিশুরা পাহাড়ের নিচে নামতে পাওে না। ফলে তাদের গোসলের জন্য পানি সংগ্রহ করে পরিবারের অন্যরা। বিশেষ করে পানি সংগ্রহের প্রতিদিনকার এই লড়াইটা পরিবারের নারীদেরকেই করতে হয়।
পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, আমরা দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করি, এখানে বিদ্যুৎ নাই। পাহাড়ের মাটি অনেক শক্ত তাই ডিপ বা রিং টিউবওয়েল বসানো যায় না। আমরা বাধ্য হয়ে পাহাড়ের নিচে কুয়া তৈরি করে অথবা ছড়া থেকে পানি সংগ্রহ করি। যা দিয়ে আমাদের সামান্য প্রয়োজন মেটানো যায়। এখন পাড়ায় পাইপের মাধ্যমে পানি পাওয়াতে সবার খুব উপকার হয়েছে।
লাইজু পাংখোয়া পাড়ার বাসিন্দা বুতসাই পাংখোয়া জানান, আমাদের পাড়ায় প্রায় ৩০ পরিবারের বসবাস। পাড়াটি দুর্গম হওয়ায় এখানে পানীয় জলের খুবই অভাব ছিল। গ্রামবাসীর ভরসা ছিল ঝিরি ঝরনা ও কুয়ার পানি। তা সংগ্রহ করতে পাহাড়ের নিচে নামতে হয়। অনেক কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করেন এখানকার নারীরা। এখন জেলা পরিষদের দেওয়া পাইপের মাধ্যমে পাড়ায় বসেই পানি পাচ্ছে সবাই। আমাদের কষ্ট অনেকটা কমে গেল এবার। জেলা পরিষদ এমন জনবান্ধব আরো বেশি কাজ করে মানুষের উপকার করবে বলে আমরা আশা করি।
আজ্যাংছড়ি গ্রামের বাসিন্দা সুমতি চাকমা বলেন, পাহাড়ের প্রধান সমস্যা পানি। এখানে পানির সংকট সারাবছরই লেগে থাকে। নারীরা অনেক দূর পথ হেঁটে কূয়া বা ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করে। জেলা পরিষদ আমাদের সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা খুবই খুশি। গ্রামের নরীদের কষ্ট অনেকটা দূর হয়েছে। এখন পাড়ায় বসানো পাইপ থেকে সহজেই পানি সংগ্রহ করতে পারছে সবাই। আমাদের খুব উপকার হয়েছে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাইউ প্রু মেরী বলেন, বরকল একটি দুর্গম উপজেলা; এখানে সড়ক নেই, বিদ্যুৎ নেই। এখানকার দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোতে পানির খুবই সংকট। স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুটি পাড়ার ৯০টি পরিবারের জন্য গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পাহাড়ি ঝরনা ও ছড়ায় বাঁধ দিয়ে সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে পাড়ায় পানি সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে এখানকার বাসিন্দাদের পানীয় জলের সংকট দূর হলো। পাহাড়ের যেসব দুর্গম এলাকায় পানির সংকট রয়েছে সেখানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংকট দূর করা সম্ভব।

