বিশেষ প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
নানা আয়োজনে বান্দরবানে বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে বান্দরবানের স্থানীয় রাজার মাঠে ‘আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্থক প্রয়োগ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পাহাড়ের মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, লুসাই, খেয়াং, খুমী’সহ এগারো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোষাক সংস্কৃতি তুলে বান্দরবানে শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে সমবেত হন এবং গণসংগীতে অংশ নেন। দাবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন প্লেকার্ড হাতে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএসমং।
আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা.মং উষাথোয়াই এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইচ প্রু মাস্টার, কথা সাহিত্যিক এহসান মাহমুদ, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, এডভোকেট উবা থোয়াই মারমা, আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক নারী নেত্রী সূচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএসমং বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু সংস্কৃতি ও বহু জাতির দেশ। এটি কোনো একক সত্ত্বার দেশ নয়। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পার্বত্য এলাকায় অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ, বহিরাগতদের অবৈধভাবে ভুমিলিজ প্রদান বাতিল এবং শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন বাহিনীর ক্যাম্পের আশপাশে রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন এবং অবৈধ জমি দখলের প্রবণতা বাড়ছে। পাহাড়ে শত শত একর জমি রিসোর্ট ও পর্যটন ব্যবসার নামে দখল হয়ে যাচ্ছে, যা পাহাড়িদের ভূমি অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ক্রমশ ক্ষুণœ হচ্ছে। যেমন এরশাদ পতনের পর ৯০-এর গণআন্দোলনের চেতনা হারিয়ে গিয়েছিল, তেমনি ২০২৪-এর আন্দোলনের চেতনাও এখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনের মূল চেতনা ধারণ না করে কেবল দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যস্ত।

