নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
সাজেক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১২ জন পর্যটককে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবিনা আফসানা রিংকির লাশ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে গাইবান্ধার উদ্দেশে নিয়ে গেছেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়(খুবি) কর্তৃপক্ষ। খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের হেলিপ্যাডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি অবতরণ করেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রুবিনা আফসানা রিংকির মরদেহের সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশেদুর রহমান ও একজন রিংকির সহপাঠী রণজিৎ রায় নামের একই ডিপার্টমেন্টের ছাত্র গেছেন। নিহত রিংকির গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ভবানিপুর গ্রামে।
এদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রিংকির মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ খরচ ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করেছেন বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুমানা আক্তার।
খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. সাবের হোসেন বলেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ খুলনায় পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে।
এদিকে আহতদের দেখতে বুধবার বিকেলে হাসপাতালে ছুটে যান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এসময় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা সহায়তায় এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের সিজকছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খুলনা থেকে আসা পর্যটকবাহী একটি জিপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবিনা নিহত হন এবং তার সহপাঠীসহ আরও ১২ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। দ্রুত আহতদের খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে আনা হয়। পরে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

