মো. ইসমাইল, পানছড়ি ॥
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু পাহাড়ি অঞ্চলের নিরাপত্তার পাহারাদার নয়, বরং এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম সহযাত্রীও। তারই প্রতিফলন ঘটলো সম্প্রতি, যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের উদ্যোগে খাগড়াছড়ির রেজামনি পাড়া ও কারিগর পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকটের অবসান হলো।
২০২৫ সালের ২৯ মার্চ রেজামনি পাড়া আর্মি ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কারবারি ও সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় উঠে আসে বহু বছরের দুঃখের কথা-বিশুদ্ধ পানির অভাব। এসময় সেনাপ্রধান নির্দেশ দেন সৌর বিদ্যুৎ চালিত টেকসই পানির প্রকল্প বাস্তবায়নের। ছয় মাসের মাথায় সেনা প্রধানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পেয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে রেজামনি পাড়া ও কারিগর পাড়ার প্রায় ১২০ পরিবার এখন বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সুবিধা পাচ্ছেন। আগে ঝিরি বা কুপ থেকে পানি সংগ্রহ করে খেতে হতো, যার ফলে পানিবাহিত রোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। এখন বাড়িতেই বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ায় আনন্দে ভাসছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী বলেন, আমরা সেনাপ্রধানের কাছে কৃতজ্ঞ। আগে কষ্ট করে ঝিরি থেকে পানি আনতে হতো, নানা রোগে ভুগতাম। এখন ঘরে বসেই বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি। এতে আমাদের অনেক উপকার হচ্ছে।
এই এলাকায় ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে চাকরি জীবনের শুরু করেছিলেন সেনাপ্রধান। দায়িত্বশীলতার সেই স্মৃতি তাঁকে আবারও টেনে আনে। তাই সেনাপ্রধান হওয়ার পর পুনরায় পরিদর্শনে এসে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন এবং সেটি বাস্তবায়িত হলো পানির এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ বলেন, সেনাবাহিনী শুধু পাহাড়ের নিরাপত্তা নয়, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও কাজ করছে। সেনাপ্রধান এখানে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এখানকার মানুষের প্রতি বিশেষ টান অনুভব করেন। তাই বিশুদ্ধ পানির দাবিটি তিনি নিজ দায়িত্বে পূরণ করেছেন। আজ উদ্বোধনের মাধ্যমে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই উদ্যোগ পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর উন্নয়ন কার্যক্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ শুধু জীবনমান উন্নত করবে না, বরং রোগবালাই কমিয়ে এনে নতুন আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
এসময় খাগড়াছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খাদেমুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, জেলা পুলিশ সুপার মো.আরেফিন জুয়েলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

