শংকর হোড় ॥
১ লক্ষ ৬৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে রাঙামাটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করলেন বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট ২১৪টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন দুই লক্ষ এক হাজার ৪৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৪২ ভোট। রাঙামাটি রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী ভোটের তথ্য জানান।
তিনি আরো জানান, এই আসনে ১১ দলীয় জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দিক ২২ হাজার ৭১৫, জাতীয় পার্টির অশোক তালুকদার (লাঙ্গল) দুই হাজার ৯৭৪, মো. জসিম উদ্দিন (হাতপাখা) তিন হাজার ৬৭২, জুঁই চাকমা (কোদাল) এক হাজার ৭০ এবং মো. আবুল বাশার (ট্রাক) ৪৪৯ ভোট পেয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটিতে মোট ভোট পড়েছে দুই লক্ষ ৭৪ হাজার ০১৮। এর মধ্যে বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ১০১৫২ এবং বৈধ ভোটার সংখ্যা দুই লক্ষ ৬৩ হাজার ৮৬৬।
রাঙামাটি আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট দুই লাখ ২৬ হাজার ৪০৬ জন অর্থাৎ ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
নির্বাচনের জয়লাভের পর এক প্রতিক্রিয়ায় দীপেন দেওয়ান বলেন, তৃণমূল মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করেছে এবং তাদের ভাগ্য তারেক রহমানের ওপর সঁপে দিয়েছে। আমরা সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করতে চাই। বিএনপি একটি জনবান্ধব দল। আমাদের আচরণও সেই রকম হতে হবে। আমার দরজা সকলের জন্য সব সময় খোলা থাকবে। আমাদের এই জয় একটি চ্যালেঞ্জিং জয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। এই দায়িত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
এর আগে দীপেন দেওয়ান গত ২০ বছর ধরে রাঙামাটি বিএনপির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ২০০৬ সালে যুগ্ম জজের চাকুরি ছেড়ে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর বাংলাদেশের রাজনীতির চড়াই-ওতড়াইয়ের কারণে সেসময় আর নির্বাচন না হয়ে ওয়াল ইলেভেন সৃষ্টি হলে আটকে যায় দীপেন দেওয়ানের ভাগ্য। ওয়ান ইলেভেন সরকারের নতুন নির্বাচনী আইনের ফাঁদে আটকে পড়ে মাত্র তিন মাসের মেয়াদের জন্য ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন করতে পারেননি দীপেন দেওয়ান। এরপর ২০১০ সালে বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে অদ্যবধি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাঙামাটির বিএনপি একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে কাজ করে গেছেন। অবরোধ, মিছিল, মিটিংয়ের সবখানেই ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। দুঃসময়েরও দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান অবশেষে টিকেট পেলেন সংসদের।

