নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এর আহবায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশ একটা দোলাচলের মধ্যে রয়েছে, ছাত্র অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তন আমরা চেয়েছি, সেই পরিবর্তনগুলোকে টেকসই করার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যে প্রয়োজনীয়তা, তফশিল ঘোষণার মাধ্যমে আমরা সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকছি। ভীতিমুক্ত ভোটার, প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং সক্ষম আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দৃশ্যমান চিত্র আমরা এখনো দেখতে পারছি না। আস্থা সৃষ্টির করার জন্য বর্তমান সরকার থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এটাই আমাদের আকাক্সক্ষা।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো একটা বড় খেলোয়াড়। উত্তরণকালীন রাজনীতির ভেতরে শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা, অংশগ্রহণ, অন্তর্ভূক্তি এগুলো নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা বড় ভূমিকা পালন করবে। সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দল-এদের সমন্বয়ে আমরা আশা করছি আগামী দিনগুলো। আর এই সময়ে যাতে ভোটারদের কণ্ঠস্বর হারিয়ে না যায়, সেজন্য নাগরিকদের ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছি।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি বিশেষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এজন্য জাতীয় সমাধান গুরুত্বপূর্ণ। এই সমাধানের লক্ষ্যে সকলের অংশগ্রহণ, সকলের অধিকার এবং ইতিহাস বিবেচনা করতে হবে। সমস্যা সমাধানে রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এটি একটি রাজনৈতিক সমস্যা, সেটাকে সেই বিবেচনায় সমাধান করতে হবে। আগামীর সরকার যাতে এই সমস্যাকে তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে থাকে তার জন্য কাজ করা হবে। মোট কথা আগামীর বাংলাদশে কোন নাগরিক পিছিয়ে থাকবে না।
রাঙামাটিতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এর প্রাক-নির্বাচনী উদ্যোগে আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে বড়াদম এলাকায় একটি রিসোর্টে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)এর ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান, চাকমা রানী ইয়েন ইয়েনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিগণ।
উক্ত পরামর্শ সভায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও চুক্তির পুনঃমূল্যায়ন, এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, ভূমি কমিশন কার্যকর, হ্রদ খনন, নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন যাতে কঠোর হাতে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, প্রার্থীর ক্ষেত্রে না ভোট প্রদানের বিধান রাখা, দেশ বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

