নিজস্ব প্রতিবেদক
Sunrise প্রকল্পের উদ্যোগে, FED (Forum on Ecology and Development) রাঙামাটি এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে রাজবাড়ি সড়ক সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হলো “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা ২০২৫ বাতিলের দাবি” শীর্ষক সুশীল সমাজের গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক, পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতিতে আলোচনা সভাটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত প্রাণবন্ত, আবেগময় এবং শক্তিশালী দাবিমুখর।
সভায় সভাপতিত্ব করেন FED রাঙামাটির সভাপতি মুজিবুল হক বুলবুল, এবং সঞ্চালনা করেন FED সদস্য লিপিকা ত্রিপুরা। জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরা’র স্বাগত বক্তব্য শেষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোনঘর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এবং উন্নয়ন গবেষক অশোক কুমার চাকমা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মোনঘর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অশোক কুমার চাকমাকে বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি শাসনগত বৈধতা ও স্বচ্ছতার সংকটে নিমজ্জিত দেশের ঘোষিত থ্রি-জিরো ভিশন–এর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বাস্তব সমস্যার অবাস্তব ও ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এতে। বিদ্যুৎ চাহিদা অতিমূল্যায়ন এবং আমদানিনির্ভরতা জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
এবং নবায়নযোগ্য শক্তিকে গুরুত্বহীন করে ফেলা হয়েছে।
এই মহাপরিকল্পনা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে অজানা ঋণের বোঝা এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনায় ন্যায়সংগত রূপান্তরের কোন অস্তিত্ব নেই। ‘এই মহাপরিকল্পনা শক্তি নিরাপত্তা নয়, বরং ঋণ, আমদানি নির্ভরতা ও জলবায়ু ঝুঁকির নতুন ফাঁদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন টিআইবি রাঙামাটির এরিয়া ম্যানেজার বেনজিন চাকমা, উন্নয়নকর্মী সুপ্তি দেওয়ান, গোর্কি চাকমা, উন্নয়নকর্মী ঝুমালিয়া চাকমা, প্রকৌশলী গঙ্গা বিজয় চাকমাসহ অন্যান্য সংবাদকর্মীরা।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে জ্বালানি সম্ভাবনাকে নতুন করে বিবেচনা করতে গবেষণা অপরিহার্য। কাপ্তাই লেক, ছড়া ও স্রোতধারায় কি নতুন সম্ভাবনা আছে তা জানতে হবে। দেশে বিদ্যুৎ খাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অগ্রগতি নেই। অথচ মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে উন্নত দেশগুলোর মতো—যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বক্তারা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ও কাপ্তাই লেক ব্যবহারের কার্যকারিতা যাচাইয়েরও দাবি জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। গণশুনানি ছাড়া মহাপরিকল্পনা গ্রহণ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক বলেও মনে করেন বক্তারা। EPSMP ২০২৫ বাতিল করে নবায়নযোগ্য ভিত্তিক নতুন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই গোলটেবিল আলোচনা সভায়।
উম্মুক্ত আলোচনার পর বক্তব্য রাখেন— প্রোগ্রেসিভ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা, FED, সদস্য এবং সাংস্কৃতিক কর্মী শিশির চাকমা, উন্নয়ন সংস্থা উইভ এর নির্বাহী পরিচালক এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য নেইউ প্রু মারমা মেরি।
সমাপনী বক্তব্যে সভায় সভাপতির দায়িত্বে থাকা মুজিবুল হক বুলবুল বলেন— এই মহাপরিকল্পনা দেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনগণের মতামত, বিজ্ঞান ও প্রকৃতি—এই তিনের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়াই সময়ের দাবি।

