আরমান খান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির একটিমাত্র সংসদীয় আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভোটের মাঠে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন গণতন্ত্র মঞ্চ সমর্থিত বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী জুঁই চাকমা।
তিনি ২৯৯নং রাঙামাটি সংসদীয় আসন থেকে ‘কোদাল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। একমাত্র নারী প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ ও আলোচনা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি কোদাল প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
জুঁই চাকমা বলেন, ‘রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কথা সংসদে তুলে ধরতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। এখানকার সব জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে গণমানুষের জন্য কাজ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রেখে এলাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, আমি সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের প্রতিনিধি হতে চাই। রাঙামাটি আসনে নারী প্রার্থী না থাকাটা আমাদের জন্য একটি বড় বাস্তবতা। আমি চাই আমার অংশগ্রহণ নারীদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তুলবে। তবে রাঙামাটি দেশের সবচাইতে বড় জেলা যা ১০টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এবং এখানে সংসদীয় আসন মাত্র একটি। যা নারী প্রার্থীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক, ১০ টি উপজেলার মধ্যে ৫টিতে যেতে হয় নৌপথে।
নির্বাচিত হলে উন্নয়ন বঞ্চিত এই পাহাড়ি জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে চান বলে জানান নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী জুঁই চাকমা।
তিনি বলেন, রাঙামাটির সাথে সারা দেশের উন্নত যোগাযোগের জন্য এখানে রেল লাইন স্থাপন করা দরকার। পাশাপশি হ্রদ নির্ভর উপজেলাগুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগ তৈরী করা হলে পর্যটনের বিকাশে অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে এখানে। নির্বাচিত হলে জেলা পরিষদের সকল নিয়োগে ঘুষ ও দূর্ণীতিমুক্ত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,রাঙামাটির একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে জুঁই চাকমার অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং নারী নেতৃত্বের উপস্থিতিকে দৃশ্যমান করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
নারী উন্নয়নকর্মী ও কারবারি (পাড়া প্রধান) চম্পা চাকমা বলেন, ‘নারী হিসেবে সবারই অধিকার আছে নির্বাচণে অংশ নেওয়ার। তবে শুধুমাত্র নারী হবার কারণে তিনি যেনো কোনো বাঁধার সম্মুখীন না হন সেটাই আশা করি। ভোটে কে জিতবে বা কে হারবে সেটা ভিন্ন বিষয় বরং নারী হিসেবে তিনি যে সাহসের লড়াই করছেন এজন্য তাকে সহযোগিতা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তিনি যেনো নির্বিঘ্নে তার প্রচার প্রচারণা চালাতে পারেন সেদিকে সকলের সুদৃষ্টি থাকা দরকার।’
মঙ্গলবার নির্বাচনি প্রচারণায় এই নারী প্রার্থী দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এসময় তিনি বলেন, ভোটের সময় আসলে পাহাড়ের একটি সিন্ডিকেট ভোটারদের মাথা বিক্রি শুরু করে দেয়। এবার যেন কেউ সেই সুযোগ নিতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
বর্তমানে রাঙামাটি ২৯৯ নং আসনে নির্বাচনে লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মনোনিত প্রার্থী এ্যাড. দীপেন দেওয়ান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনিত প্রার্থী জসিম উদ্দিন, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির মনোনিত প্রার্থী জুঁই চাকমা, খেলাফত মজলিস এর প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী অশোক তালুকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা এবং গণঅধিকার পরিষদ এর মনোনিত প্রার্থী আবুল বাশারসহ মোট ৭ জন প্রার্থী।
রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে দুটি পৌরসভা ও ৫০টি ইউনিয়ন মিলে মোট ভোট কেন্দ্র ২১৩টি। এসব কেন্দ্রের মধ্যে হেলিসর্টি কেন্দ্র ২০টি। জেলায় মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন।

