নিজস্ব প্রতিবেদক
অবশেষে ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাঙামাটির সাথে দেশের সব রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সৌদিয়া পরিবহনের সাথে টোকেন দ্বন্দ্বে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাঙামাটির সাথে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিআরটিসি বাস চালানোর চেষ্টা করলে সেটিও বন্ধ করে দেয়। এতে বিপাকে পড়ে এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা। অবশেষে প্রশাসনের সাথে বৈঠক শেষে মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত দেয়।
জানা যায়, সৌদিয়া পরিবহন তাদের একটি বাস রাঙামাটি-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করে, কিন্তু চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মালিক সমিতিতে টোকেন ফি জমা দেয়ার কথা থাকলেও সেটা তারা দেয়নি। এতে বুধবার সমিতির নেতৃবৃন্দ সৌদিয়া কাউন্টার বন্ধ করে দেয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা চালু করা হয়। এর প্রতিবাদে কোনও প্রকার ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক সমিতি।
পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। এসময় যাত্রীরা মোটর মালিক সমিতির সিন্ডিকেটকে দায়ি করে এটি ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।

এদিকে বাস চলাচল বন্ধের পর গতকাল বিকাল সাড়ে চারটায় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন সমিতির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। এসময় সেনাবাহিনী,পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘণ্টা বৈঠক শেষে সমিতির নেতৃবৃন্দ আপোষে না আসলে বর্তমান নির্বাচনকালীন সময়ে সবকিছু স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনে যেকোনও পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মোটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ নিজেরাই আলোচনা শেষে পুনরায় গাড়ি চালুর সিদ্ধান্ত দেয়।
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. সৈয়দ হোসেন বলেন, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায়, প্রশাসনের অনুরোধসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তীতে প্রশাসনের সাথে আলোচনা হবে।

