শংকর হোড় ॥
২২ সাল থেকে ২৫ সাল এক নিয়োগে তিনবার এডমিট কার্ড পেয়েছে চাকরি প্রত্যাশীরা, আর তিনবারই ‘অনিবার্য কারণবশত’ নিয়োগটি স্থগিত হয়েছে। আর এনিয়ে চাকুরিপ্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায়। পার্বত্য চুক্তি অনুসারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত বিভাগ হিসেবে ন্যস্ত হওয়ায় এসব নিয়োগের দেখভাল পুরোটাই জেলা পরিষদ করে থাকে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ৪৬২ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নিয়ে ২০২২ সালের ২৯ মে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যার লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। কিন্তু ‘অনিবার্য’ কারণ দেখিয়ে ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তিটি স্থগিত করে জেলা পরিষদ। সেই সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অংসুইপ্রু চৌধুরী। পরবর্তীতে একই চেয়ারম্যানের অধিনে ২০২৪ সালে ২৪ মে আবারো একই বিজ্ঞপ্তিটির লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার তিন দিন আগে সেই লিখিত পরীক্ষাও আবারো স্থগিত হয়ে যায়। এবারো ‘অনিবার্য’ কারণ দেখিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি স্থগিত করে জেলা পরিষদ।
পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর জেলা পরিষদ পুনর্গঠন হয়। পুনর্গঠিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। তিনি দায়িত্ব নেয়ার প্রায় এক বছর পর বিজ্ঞপ্তিটি আবারো প্রকাশ করে। সেই হিসেবে আগামী ১৪ নভেম্বর পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবার আবারো ‘অনিবার্য’ কারণ দেখিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করলো জেলা পরিষদ। নিয়োগ স্থগিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাকুরি প্রত্যাশীরা।
বিকাশ চাকমা নামে এক চাকুরিপ্রত্যাশী পরীক্ষা স্থগিতের খবর শুনে বলেন, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বার একই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হলো। এগুলো কোন তামাশা? একটা পরীক্ষার জন্য কতবার প্রস্তুতি নেওয়া যায়? তা ছাড়া সরকারি অর্থের অপচয়, সময় নষ্ট, প্রার্থীদের হয়রানি সব মিলিয়ে এত কাহিনী করার কোনও মানে হয় না। এভাবে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। খারাপ লাগে যখন এতগুলো প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে টালবাহানা করে। মাহফুজ আলম নামে আরেক চাকুরিপ্রত্যাশী বলেন, এই নিয়োগে কয়েক হাজার চাকুরিপ্রত্যাশী অংশ নিচ্ছে। এইভাবে হয়রানি করার কোনও অধিকার জেলা পরিষদের নেই। এই নিয়োগ কখন হবে কেউ জানে না?
এই বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, একটা নিয়োগ তিনবার স্থগিত হওয়া খুবই দুঃখজনক। এতে শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে হতাশা চলে আসবে, তারা বিপথে চলে যাবে। যে সমস্যায় থাকুক না কেন, দ্রুত সেসব নিরসন করে স্বচ্ছতার সাথে কোনও প্রকার তদবির, অনিয়ম ও লেনদেন ছাড়া যাতে নিয়োগটা দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেই দাবি থাকবে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, যেহেতু ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি সামনে এসেছে, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর্যাপ্ত সময় আমরা হয়তো পাবো না। তাই আপাতত নিয়োগের সকল কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেছি আমরা। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে আমরা আবারো পরীক্ষাটি নেয়ার চেষ্টা করবো।

