শ্যামল রুদ্র, রামগড়
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা সদরের খান কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে অবৈধ VOIP (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই চীনা নাগরিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রামগড় থানা পুলিশ। বুধবার রাতে পরিচালিত অভিযানে তাঁদের আটক করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে খাগড়াছড়ি আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার চীনা নাগরিকরা হলেন—জিয়াং চেংটং (৩৩) এবং তাং তংউ (৩২)। তাঁরা চট্টগ্রামের খুলশী আবাসিক এলাকায় বসবাস করছিলেন। একই মামলায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর মো. আসিফ উদ্দিন (২৫)–কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের জন্য বিশেষ অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই দুই চীনা নাগরিক রামগড়ে অবস্থান করছিলেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে পুলিশ খান কমপ্লেক্সের ওই কক্ষে অভিযান চালায়। সেখানে থাকা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ডিভাইস দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে বিষয়টি বিটিআরসিকে জানানো হয়। পরে ঢাকা থেকে আসা বিটিআরসির বিশেষজ্ঞ দল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে VOIP–এর অবৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করে। অভিযানস্থল থেকে সিমবক্স, রাউটার, কানেকশন প্যানেল, অ্যান্টেনা, NVR মেশিন, POE সুইচসহ ৬০টির বেশি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন জালিয়াতি করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিটিআরসি। এতে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিটিআরসির উপসহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (সংশোধনী ২০১০)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেন, জব্দ করা ডিভাইসগুলো অবৈধ কল রাউটিংয়ে ব্যবহৃত হচ্ছিল—বিটিআরসি তা নিশ্চিত করার পর মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এলাকায় এ ধরনের আরও কোনো চক্র সক্রিয় আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রামগড়

