নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দু’দিনব্যাপী জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স। এতে ৭০এর অধিক গবেষকগণ তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে পাহাড়ের পর্যটন সেক্টরে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর(ভিসি) ড. আতিয়ার রহমান। তিনি বুধবার সকালে রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
ভিসি আরো বলেন, আগামীর পর্যটন-প্রকৃতির নতুন এক আবিষ্কারের দিগন্ত- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কনফারেন্সে দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ বক্তব্য রাখবেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহায়তায় অনুষ্ঠেয় কনফারেন্সে যে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে, এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের পর্যটনখাত ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ হবে। এই এলাকার কৃষ্টি-কালচার সমুন্নত রেখে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে রাবিপ্রবি’র এই আয়োজন ভূমিকা রাখবে।
মিট দ্য প্রেস শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও প্রশ্নের জবাবে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাঙামাটিতে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, প্রচার ও প্রসারে পর্যটন শিল্পের স্টেকহোল্ডার ও সাংবাদিকদের সাথে কাজ করবে। এ কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটন শিল্প নিয়ে যারা একাডেমিয়াতে কাজ করেন, তাদের আইডিয়া শেয়ারিং হবে এবং সেই সাথে রাঙামাটিতে জনসমাগমে স্থানীয় পর্যটন শিল্প ও পর্যটন শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদের ব্র্যান্ডিং ও অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। এই কনফারেন্স শেষে পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে একটি সুপারিশমালা তৈরি করা হবে, সেগুলো বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং সাংবাদিকদের কাছে শেয়ার করা হবে। এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে আরো আকর্ষণীয় করতে, পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতদের সেবা প্রদানের মনস্তত্ত্ব গড়ে তুলতে এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তিনি ২০২৬ সালের মধ্যে বিদেশি সংস্থার অনুদানে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ট্যুরিজম হাব নির্মাণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ শহরকে ট্যুরিজমবান্ধব করার জন্য যে ঘাটতি তা পূরণের জন্য যা করণীয় তা হবে এমন যে শহরের কর্নারে কর্নারে ট্যুরিজমের গন্ধ বেরোবে, প্রতিটি আনাচে-কানাচে ট্যুরিজমের গন্ধ বেরোবে, পর্যটকগণ যেন বুঝতে পারে এ শহর তাদের জন্য সেজেছে। এ শহর তাদেরকে গ্রহণ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে, এখানকার মানুষেরা আতিথেয়তা দেয়ার জন্য উদগ্রীব। এছাড়া স্থানীয় সকল জনগোষ্ঠীকে সংযুক্ত করে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কনফারেন্সের দিনগুলোতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের স্টল দেয়ার আহবান জানান। তিনি রাঙামাটির অন্যান্য টুরিস্ট স্পটগুলোর মতো বিশ্ববিদ্যালয়কেও টুরিস্ট স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদ্দাম হোসেন এবং ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনফারেন্সের সদস্য-সচিব জি এম সেলিম আহমেদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দেসহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক এবং রাঙামাটির প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

