নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে চাকুরিপ্রত্যাশীরা বিক্ষোভ এবং পরিষদের প্রধান ফটক প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখে। এসময় জেলা পরিষদের অভ্যন্তর থেকে কেউ বাইরে যেতে পারেনি, বাইরের থেকেও কেউ প্রবেশ করতে পারেনি পরিষদে।
আন্দোলনকারীরা জানায়, আগামী শুক্রবার নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্যকারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার জেলা পরিষদ নিয়োগটি স্থগিত করে। এই নিয়ে একই নিয়োগ তিন বার স্থগিত হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে চাকুরিপ্রত্যাশীরা। প্রতিবাদে বুধবার সকাল নয়টা থেকে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ পালন করে। পরবর্তীতে তারা অফিসে ঢুকে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে, কিন্তু চেয়ারম্যানসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে তারা মোবাইলেও কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এতে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সকাল ১১টার দিকে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়। এরপর জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুনশীদ আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বললেও তারা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেনি। পরবর্তীতে বিকাল চারটার দিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলবেন-এমন আশ্বাস পেয়ে প্রাথমিকভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ফটকের তালা খুলে দেয়।

আন্দোলনকারী নিতীষ চাকমা বলেন, ১৪ নভেম্বর পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও হঠাৎ পরীক্ষার দুই দিন আগে পরিষদ পরীক্ষা স্থগিতাদেশ দেয়। তিনি আরও বলেন, পূর্বের সরকারের সময়েও নিয়োগে দলীয়করণ হয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম এই অন্তর্বর্তী পরিষদে এই নিয়োগ না হলে মেধাবী নিয়োগ পাবে। যদি কোনও নির্বাচিত সরকারের আমলে নিয়োগ হয় সেটিও স্বচ্ছ হবে না।
সুপায়ন চাকমা বলেন, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনবার স্থগিত করা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই পরীক্ষা। এতে অনেকে বয়স শেষ হয়ে গিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে জেলা পরিষদ থেকে তারিখ ঘোষণাসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

এই বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, রাঙামাটি জেলা পরিষদের শিক্ষা বিভাগের সহকারী শিক্ষক পদে ৫৮৯টি শূন্যপদের বিপরীতে ৬ হাজার ৬৪৮ জন আবেদন করেন।

